রিকুইজিশন লেটার / police to police

এক থানার ওসি যখন অন্য কোনো থানার (যেমন আশুলিয়া থানা) এলাকায় আসামি ধরার জন্য রিকুইজিশন বা সহায়তা চান, তখন এটি মূলত ফৌজদারি কার্যবিধি (CrPC) এবং পুলিশ রেগুলেশনস অব বেঙ্গল (PRB) অনুযায়ী পরিচালিত হয়।

নিচে এর সংশ্লিষ্ট ধারা ও প্রক্রিয়া বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

১. সংশ্লিষ্ট আইনি ধারা: ফৌজদারি কার্যবিধি (CrPC), ধারা ৫৪ ও ৫৮

  • ধারা ৫৮ (অন্য এখতিয়ারে আসামি অনুসরণ): এই ধারা অনুযায়ী, একজন পুলিশ অফিসার কোনো ব্যক্তিকে বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তার করার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের যেকোনো স্থানে তাকে অনুসরণ (Pursue) করতে পারেন। অর্থাৎ, এক থানার পুলিশ অন্য থানার এলাকায় গিয়ে আসামিকে ধরতে পারে।

  • ধারা ৫৪ (বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তার): যদি আসামি আমলযোগ্য (Cognizable) অপরাধের সাথে জড়িত থাকে, তবে রিকুইজিশন প্রাপ্ত থানার পুলিশ তাকে এই ধারায় গ্রেপ্তার করতে পারে।

২. পুলিশ রেগুলেশনস অব বেঙ্গল (PRB) বিধি

বাস্তব ক্ষেত্রে এই রিকুইজিশন বা সহায়তা প্রক্রিয়াটি PRB বিধি ১১৫ ও ৬৬১ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।

  • সহযোগিতা চাওয়া (Assistance): যখন এক থানার পুলিশ অন্য থানায় যায়, তখন স্থানীয় থানা (এক্ষেত্রে আশুলিয়া থানা)-কে বিষয়টি অবহিত করা বাধ্যতামূলক।

  • রিকুইজিশন লেটার: সাধারণত ওসি একটি আনুষ্ঠানিক পত্র বা বার্তা (বেতার বার্তা বা ইমেইল) পাঠান, যেখানে আসামির বিবরণ, মামলার নম্বর এবং কেন তাকে ধরা প্রয়োজন তা উল্লেখ থাকে।

৩. রিকুইজিশনের মূল ধাপসমূহ

  1. রিকুইজিশন পাঠানো: সংশ্লিষ্ট থানার ওসি আশুলিয়া থানার ওসির কাছে একটি "Request for Assistance" বা রিকুইজিশন পাঠাবেন। এতে উল্লেখ থাকবে যে আসামিকে আশুলিয়া থানা এলাকায় অবস্থান করতে দেখা গেছে।

  2. আশুলিয়া থানার ভূমিকা: রিকুইজিশন পাওয়ার পর আশুলিয়া থানার ওসি তাদের অফিসার ও ফোর্স দিয়ে মূল থানার পুলিশকে সহায়তা করবেন। তারা চাইলে আসামিকে গ্রেপ্তার করে আশুলিয়া থানার হাজতে রাখতে পারেন (ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করার আগ পর্যন্ত)।

  3. জিডি ভুক্তি (General Diary): রিকুইজিশন নিয়ে আসা পুলিশ অফিসার আশুলিয়া থানায় পৌঁছানোর পর সেখানে একটি জিডি (GD) করবেন যে তারা আসামি ধরার উদ্দেশ্যে ওই এলাকায় এসেছেন।

  4. আসামি হস্তান্তর: গ্রেপ্তারের পর আশুলিয়া থানা একটি মেমো তৈরি করে আসামিকে মূল থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করবে।

৪. জরুরি ক্ষেত্রে সরাসরি অভিযান

যদি এমন পরিস্থিতি হয় যে স্থানীয় থানার জন্য অপেক্ষা করলে আসামি পালিয়ে যাবে, তবে এক থানার পুলিশ সরাসরি আশুলিয়া গিয়ে আসামিকে ধরতে পারে। তবে ধরার সাথে সাথেই নিকটস্থ আশুলিয়া থানায় বিষয়টি জানাতে হবে এবং জিডি এন্ট্রি করতে হবে।



Comments

Popular posts from this blog

বাংলাদেশ দণ্ডবিধি, ১৮৬০ (The Penal Code, 1860)অধ্যায় (Chapters) অনুযায়ী পূর্ণ তালিকা

ছানি মামলা (Mis case) কাকে বলে? ছানি মামলার সিদ্ধান্তকে কী বলে?

পুলিশি বা জিআর মামলা বিভিন্ন ধাপ (সংক্ষিপ্ত):