মুসাবিদার প্রকারভেদ বা ধরন গুলো

 আইনি পরিভাষায় মুসাবিদা বা Drafting বলতে কোনো আইনি দলিল বা নথির খসড়া প্রস্তুত করাকে বোঝায়। বিষয়বস্তু এবং আদালতের প্রকৃতি অনুযায়ী মুসাবিদাকে প্রধানত তিনভাগে ভাগ করা যায়।

নিচে মুসাবিদার প্রকারভেদগুলো সহজভাবে আলোচনা করা হলো:


১. দেওয়ানি মুসাবিদা (Civil Drafting)

পারিবারিক সমস্যা, জমিজমাসংক্রান্ত বিরোধ বা টাকা-পয়সার লেনদেন নিয়ে যে খসড়া তৈরি হয়।

  • আরজি (Plaint): মামলা শুরু করার জন্য বাদী যা জমা দেন।

  • লিখিত জবাব (Written Statement): বিবাদী আরজির বিপরীতে যে উত্তর দেন।

  • দরখাস্ত (Petitions): অন্তর্বর্তীকালীন কোনো আদেশের জন্য (যেমন: নিষেধাজ্ঞা বা ইনজেকশন)।

  • আপিল ও রিভিশন: নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে করা মুসাবিদা।

২. ফৌজদারি মুসাবিদা (Criminal Drafting)

মারামারি, চুরি, ডাকাতি বা অন্য কোনো অপরাধের বিচার সংক্রান্ত খসড়া।

  • এজাহার (FIR): থানায় করা প্রাথমিক অভিযোগ।

  • নালিশি দরখাস্ত (Complaint/C.R Case): সরাসরি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে করা মামলা।

  • জামিনের আবেদন (Bail Petition): আসামির মুক্তির জন্য করা মুসাবিদা।

  • অব্যাহতির আবেদন (Discharge Petition): মামলা থেকে নাম বাদ দেওয়ার আবেদন।

৩. বাণিজ্যিক ও সাধারণ দলিল মুসাবিদা (Conveyancing)

আদালতের বাইরে দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন চুক্তিনামা বা দলিল।

  • বিক্রয় কবলা (Sale Deed): জমি বা ফ্ল্যাট বিক্রির দলিল।

  • আমমোক্তারনামা (Power of Attorney): কাউকে দায়িত্ব দেওয়ার দলিল।

  • চুক্তিনামা (Agreements): যেমন—ভাড়াটিয়া চুক্তি বা ব্যবসায়িক অংশীদারিত্বের চুক্তি।

  • উইল বা অসিয়তনামা: সম্পদের উত্তরাধিকার সংক্রান্ত দলিল।


মুসাবিদা করার সময় ৩টি বিষয় অবশ্যই মাথায় রাখতে হয়:

১. ফ্যাক্টস (Facts): ঘটনার বিবরণ যেন সত্য ও ক্রমানুসারে থাকে।

২. আইন (Law): সংশ্লিষ্ট আইনের সঠিক ধারা উল্লেখ করা।

৩. প্রার্থনা (Prayer): আদালত বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আপনি আসলে কী চান, তা স্পষ্টভাবে লেখা।


Comments

Popular posts from this blog

বাংলাদেশ দণ্ডবিধি, ১৮৬০ (The Penal Code, 1860)অধ্যায় (Chapters) অনুযায়ী পূর্ণ তালিকা

ছানি মামলা (Mis case) কাকে বলে? ছানি মামলার সিদ্ধান্তকে কী বলে?

পুলিশি বা জিআর মামলা বিভিন্ন ধাপ (সংক্ষিপ্ত):