১৮৭২ সালের সাক্ষ্য আইনের (Evidence Act) গুরুত্বপূর্ণ ধারা সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা নিচে দেওয়া হলো:

 ১৮৭২ সালের সাক্ষ্য আইনের (Evidence Act) গুরুত্বপূর্ণ ধারাগুলোর অতি সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা নিচে দেওয়া হলো:

  • ধারা ৩ (সাক্ষ্য): মৌখিক বা দালিলিক প্রমাণ যা আদালতের সামনে পেশ করা হয়।

  • ধারা ৫ (বিচার্য বিষয়): শুধুমাত্র বিচার্য বিষয় বা প্রাসঙ্গিক বিষয়ের ওপর সাক্ষ্য দেওয়া যাবে।

  • ধারা ৮ (উদ্দেশ্য ও প্রস্তুতি): কোনো অপরাধ করার পেছনের উদ্দেশ্য, প্রস্তুতি বা আগের আচরণ প্রাসঙ্গিক।

  • ধারা ১১ (অন্যত্র অবস্থান/Alibi): ঘটনার সময় আসামী অন্য কোথাও ছিল বলে দাবি করলে তা প্রাসঙ্গিক।

  • ধারা ২৪ (ভয়ভীতিতে স্বীকারোক্তি): ভয় দেখিয়ে বা প্রলোভন দিয়ে আদায় করা স্বীকারোক্তি আদালতে গ্রহণযোগ্য নয়।

  • ধারা ২৫ (পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি): পুলিশের কাছে দেওয়া কোনো জবানবন্দি আসামী বা প্রতিবাদীর বিরুদ্ধে ব্যবহার করা যায় না।

  • ধারা ২৭ (তথ্য উদ্ধার): আসামীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে যদি কোনো আলামত (যেমন: অস্ত্র) উদ্ধার হয়, তবে ওই অংশটুকু সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য।

  • ধারা ৩২ (মৃত্যুকালীন জবানবন্দি): মৃত ব্যক্তি মৃত্যুর আগে ঘটনার কারণ সম্পর্কে যা বলে গেছেন, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য।

  • ধারা ৪৫ (বিশেষজ্ঞের মতামত): হাতের লেখা, আঙুলের ছাপ বা ডাক্তারি বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত গ্রহণ করা যায়।

  • ধারা ৬০ (সরাসরি সাক্ষ্য): মৌখিক সাক্ষ্য অবশ্যই সরাসরি হতে হবে (যা সাক্ষী নিজে শুনেছেন বা দেখেছেন)।

  • ধারা ১০১ (প্রমাণের দায়ভার): যে ব্যক্তি দাবি করবে কোনো তথ্য সত্য, সেটি প্রমাণের দায়িত্ব মূলত তার নিজের।

  • ধারা ১১২ (সন্তানের বৈধতা): বিবাহের বৈধতা চলাকালে কোনো সন্তান জন্ম নিলে সে বৈধ বলে গণ্য হবে।

  • ধারা ১১৫ (এস্টপেল/বিবন্ধ): একবার কোনো কথা বা কাজ দিয়ে সত্য স্বীকার করলে পরে তা অস্বীকার করা যায় না।

  • ধারা ১৩৩ (সহ-অপরাধী): একজন অপরাধী তার সহযোগীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে পারে এবং তার ভিত্তিতে সাজাও হতে পারে।

  • ধারা ১৪১ (ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন): যে প্রশ্নের উত্তর প্রশ্নের ভেতরেই থাকে (Leading Question), যা জেরা করার সময় করা হয়।

  • ধারা ১৫৯ (স্মৃতি পুনরুজ্জীবিত করা): সাক্ষী তার স্মৃতি মনে করার জন্য ঘটনার সময় লেখা কোনো দলিল দেখতে পারেন।


Comments

Popular posts from this blog

বাংলাদেশ দণ্ডবিধি, ১৮৬০ (The Penal Code, 1860)অধ্যায় (Chapters) অনুযায়ী পূর্ণ তালিকা

ছানি মামলা (Mis case) কাকে বলে? ছানি মামলার সিদ্ধান্তকে কী বলে?

পুলিশি বা জিআর মামলা বিভিন্ন ধাপ (সংক্ষিপ্ত):