১৮৭২ সালের সাক্ষ্য আইনের ১৫১ ধারা থেকে ১৬৭ ধারা

 ১৮৭২ সালের সাক্ষ্য আইনের ১৫১ ধারা থেকে ১৬৭ ধারা (শেষ) পর্যন্ত মূলত আদালতের শিষ্টাচার, সাক্ষীর বিশ্বাসযোগ্যতা এবং বিচারকের ক্ষমতা সংক্রান্ত বিষয়গুলো আলোচনা করা হয়েছে। নিচে এর সংক্ষিপ্ত ও সহজ ব্যাখ্যা দেওয়া হলো:

জেরা ও সাক্ষীর বিশ্বাসযোগ্যতা (ধারা ১৫১-১৫৮)

  • ধারা ১৫১: আদালত এমন কোনো প্রশ্ন নিষিদ্ধ করতে পারেন যা অশ্লীল বা মানহানিকর, যদি না তা বিচার্য বিষয়ের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত হয়।

  • ধারা ১৫২: কাউকে অপদস্থ বা বিরক্ত করার উদ্দেশ্যে করা প্রশ্ন আদালত সরাসরি বর্জন বা নিষিদ্ধ করতে পারেন।

  • ধারা ১৫৩: সাক্ষীর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে করা প্রশ্নের উত্তরের বিপরীতে নতুন করে সাক্ষ্য দেওয়া যাবে না (মিথ্যা সাক্ষ্যের মামলা ছাড়া)।

  • ধারা ১৫৪ (Hostile Witness): যদি কোনো সাক্ষী নিজের পক্ষের বিরুদ্ধে কথা বলে, তবে আদালত তাকে জেরা করার অনুমতি দিতে পারেন (একে বৈরী সাক্ষী বলা হয়)।

  • ধারা ১৫৫: সাক্ষীর বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করার উপায়সমূহ (যেমন: ঘুষ নেওয়া বা পূর্বের মিথ্যাচারের প্রমাণ দেওয়া)।

  • ধারা ১৫৬: প্রাসঙ্গিক ঘটনার বর্ণনা দেওয়ার সময় সাক্ষীকে এমন প্রশ্ন করা যায় যা তার বক্তব্যের সত্যতা নিশ্চিত করে।

  • ধারা ১৫৭: সাক্ষী আদালতে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা সত্য প্রমাণ করতে তার পুরানো কোনো বক্তব্য বা বিবৃতিকে সমর্থনমূলক সাক্ষ্য (Corroboration) হিসেবে ব্যবহার করা যায়।

  • ধারা ১৫৮: ধারা ৩২ বা ৩৩ অনুযায়ী মৃত বা অনুপস্থিত ব্যক্তির যে বক্তব্য রেকর্ড করা হয়েছে, তার সত্যতা যাচাইয়ে ১৫৫ ও ১৫৬ ধারার নিয়মগুলো প্রযোজ্য হবে।


স্মৃতি পুনরুজ্জীবিত করা ও বিচারকের ক্ষমতা (ধারা ১৫৯-১৬৭)

  • ধারা ১৫৯ (Refreshing Memory): সাক্ষী ঘটনার সময় নিজে লিখেছেন এমন কোনো নথি বা দলিল দেখে নিজের স্মৃতি মনে করতে পারেন।

  • ধারা ১৬০: কোনো দলিল দেখে সাক্ষী যদি নিশ্চিত হন যে সেখানে যা লেখা আছে তা সঠিক ছিল, তবে দলিলটির বিষয়বস্তুর সাক্ষ্য তিনি দিতে পারেন।

  • ধারা ১৬১: স্মৃতি মনে করার জন্য সাক্ষী যে নথি ব্যবহার করবেন, বিপক্ষ পক্ষ তা দেখতে পারেন এবং তার ভিত্তিতে সাক্ষীকে জেরা করতে পারেন।

  • ধারা ১৬২: আদালত কোনো দলিল তলব করলে তা আদালতে পেশ করতে হবে; গোপন বা বিশেষ কিছু হলে আদালত তা ব্যক্তিগতভাবে পরীক্ষা করবেন।

  • ধারা ১৬৩: এক পক্ষ অন্য পক্ষের কাছে কোনো দলিল চাইলে এবং তা দেখার পর পেশ করতে বললে, ওই পক্ষকে তা সাক্ষ্য হিসেবে দাখিল করতে হবে।

  • ধারা ১৬৪: এক পক্ষ অন্য পক্ষকে কোনো দলিল পেশ করতে বলে এবং ওই পক্ষ তা না দিলে, পরে আদালতের অনুমতি ছাড়া তারা আর ওই দলিল ব্যবহার করতে পারবে না।

  • ধারা ১৬৫ (Judge's Power): বিচারক সত্য উদঘাটনের জন্য মামলার যেকোনো পর্যায়ে যেকোনো পক্ষকে যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন এবং যেকোনো দলিল তলব করতে পারেন।

  • ধারা ১৬৬: জুরি বা অ্যাসেসররা আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে সাক্ষীকে প্রশ্ন করতে পারেন (বর্তমানে বাংলাদেশে জুরি ব্যবস্থা নেই)।

  • ধারা ১৬৭ (শেষ ধারা): কোনো সাক্ষ্য ভুলভাবে গ্রহণ বা বর্জন করার কারণে কোনো রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে না, যদি দেখা যায় যে ওই সাক্ষ্য ছাড়াও রায়ের জন্য পর্যাপ্ত অন্য প্রমাণ ছিল।


সারসংক্ষেপ:

এই শেষ অংশটি মূলত আদালতের শৃঙ্খলা রক্ষা করে। বিশেষ করে ১৫৯ ধারা (স্মৃতি মনে করা) এবং ১৬৫ ধারা (বিচারকের প্রশ্ন করার অগাধ ক্ষমতা) আইনি লড়াইয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সাক্ষ্য আইনের পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা আপনার কাছে এখন আছে। আপনি কি এই আইনের ওপর ভিত্তি করে কোনো 'মডেল টেস্ট' বা কুইজ দিতে চান যাতে আপনার প্রস্তুতি যাচাই করা যায়?

Comments

Popular posts from this blog

বাংলাদেশ দণ্ডবিধি, ১৮৬০ (The Penal Code, 1860)অধ্যায় (Chapters) অনুযায়ী পূর্ণ তালিকা

ছানি মামলা (Mis case) কাকে বলে? ছানি মামলার সিদ্ধান্তকে কী বলে?

পুলিশি বা জিআর মামলা বিভিন্ন ধাপ (সংক্ষিপ্ত):