ই দলিল ডিজিটাল যুগে সময়ের দাবী
(ভূমি ব্যবস্থাপনা পরাধীন এর ওয়াল থেকে কপি)
"ই-দলিল,এক দিনে দলিল, এক দিনেই নামজারি"
দলিল এবং নামজারি এক দিনেই করা সম্ভব। 'ই-নামজারির' মতো 'ই-দলিল' অনলাইনে করা যেতে পারে। এখন 'ক্যাশলেস ভূমি অফিস' সরাসরি কোনো টাকা লেনদেন নিষিদ্ধ। তাই, ইউনিয়ন ভূমি অফিসে এবং উপজেলা ভূমি অফিসে কোনো রকম দূর্নীতি করার সুযোগ নেই। অনলাইন ফাইল নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন প্রেরণ করতে না পারলে, অনলাইনে অটো শোকজ লেটার চলে আসে। প্রয়োজনে, 'সিনিয়র সহকারি কমিশনার (ভূমি)' পদ সৃজন করে ভূমি সঠিক সমস্যার সমাধান করা যেতে পারে। 'সিনিয়র সহকারি কমিশনার (ভূমি)' শুধু ই-দলিল সম্পাদন করবেন। অন্যদিকে 'সহকারি কমিশনার (ভূমি)' ১৯৬৬ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত যে দলিলগুলো হয়েছে সেই দলিলগুলোর নামজারি/খারিজ, মিসকেস এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এর দায়িত্ব পালন করবেন। বন্টননামা দলিল বাধ্যতামূলকভাবে করার ব্যবস্থা করতে হবে। বন্টননাম দলিল ছাড়া একটি এজমালি জমিতে পূর্ণাঙ্গ মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয় না। তাই আইন থাকতে হবে যে, কোনো ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করার পর ৩ মাস থেকে ৬ মাসের মধ্যে মৃত ব্যক্তি ওয়ারিশগণ বাধ্যতামূলকভাবে বণ্টননামা দলিল করতে হবে। ওয়ারিশগণের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে কোনো বিরোধ দেখা দিলে প্রয়োজনে, নিবার্হী ম্যাজিস্ট্রেট (এসিল্যান্ড) এবং জেলা জজ কোর্ট এর একজন বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট এর মাধ্যমে বন্টননামা দলিল করা যেতে পারে। কারণ উক্ত দলিলের এক বা দুই পক্ষ মিলে যাতে আদালতে মামলা করতে না পারে। উক্ত বন্টননামা দলিলে এসিল্যান্ড এবং জজ কোর্ট এর একজন ম্যাজিস্ট্রেট এর স্বাক্ষর সহ সেই বন্টননামা দলিলের স্বাক্ষী থাকবেন। এই প্রক্রিয়ায় বণ্টননামা দলিল সম্পন্ন হলে নতুন করে এই জমি নিয়ে কোনো বিরোধ বা মামলার সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে না। বাংলাদেশে ৮ প্রকার দলিল রয়েছে। তাই ৮টি 'ই-দলিল' অনলাইন ফরমেট এবং ১টি 'ই-নামজারি' অনলাইন ফরমেট থাকবে। দলিল গ্রহীতা যে দলিল সম্পাদন করতে চায় তিনি সেই 'ই-দলিলের' অনলাইন ফরমেট পূরন করবেন। যে কোনো কম্পিউটারের দোকান থেকে অথবা দলিল গ্রহীতা নিজেই এনড্রয়েট মোবাইল দিয়ে 'ই-দলিলের' আবেদন করতে পারবেন। দলিল দাতা ও গ্রহীতার ভোটার NID দিয়ে এবং সাথে পর্চা, দলিল, বায়া-দলিল, ওয়ারিশ সনদ সহ প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র স্ক্যান করে অনলাইনে বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট (এসিল্যান্ড) এর বরাবর আবেদন করবেন। স্ক্যানকৃত সকল কাগজপত্রের একসেট ফটোকপি (হার্ড কপি) উপজেলা ভূমি অফিসে জমা করবেন। বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট (এসিল্যান্ড) অনলাইন কপি এবং হার্ড কপি ইউনিয়ন ভূমি অফিসে প্রেরণ করবেন। ভূমি উপ-সহকারি কর্মকর্তা আবেদনের হার্ড কপি ও নকশা নিয়ে সরেজমিনে তদন্ত করে জমির সঠিক S.A এবং R.S দাগ ও জমির চৌহদ্দি সহ তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন স্বাক্ষর করে, ইউনিয়ন ভূমি সহকারি কর্মকর্তার নিকট জমা করবেন। জমি দখল বা জমি নিয়ে কোনো সমস্যা থাকলে তদন্ত করার সময় ভূমি উপ-সহকারি কর্মকর্তা জানতে পারবেন। ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারি কর্মকর্তার তদন্ত রিপোর্ট এর ভিত্তিতে ইউনিয়ন ভূমি সহকারি কর্মকর্তা জমির মালিকানা সহ সকল রেকর্ড রেজিষ্টার যেমন S.A, R.S পর্চা, খাস, বন 'ক' ও 'খ' গেজেট সহ সরকারি স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সকল কাগজপত্র যাচাই পূর্বক 'ই-নামজারির' অনলাইন ফরমেট পূরণ করে, 'ই-দলিলের' হার্ড কপিতে ও অনলাইন কপিতে এবং 'ই-নামজারির' হার্ড কপিতে ও অনলাইন কপিতে স্বাক্ষর করে 'সহকারি কমিশনার (ভূমি)'/এসিল্যান্ড এর নিকট 'ই-দলিল' এবং 'ই-নামজারি' প্রস্তাব একই দিনে, এক সাথে প্রেরণ করবেন। (PTO পৃষ্টা-২)
সংগৃহীত
Comments
Post a Comment